Rosalind Franklin প্রোটোটাইপের আট দিনের মরুভূমি পরীক্ষায় মঙ্গল রোভার পরিচালনার মহড়া দিল ESA
ESA জানিয়েছে, Charlie নামের ExoMars রোভারের একটি প্রোটোটাইপ স্পেনের Tabernas মরুভূমিতে 220 মিটার পথ পাড়ি দিয়েছে, আর তুরিনের একটি বিজ্ঞানী দল সেটিতে কমান্ড পাঠিয়েছে।

মূল বিষয়
- 1ESA জানিয়েছে, Charlie নামের একটি Rosalind Franklin রোভার প্রোটোটাইপ স্পেনের Tabernas মরুভূমিতে আট দিনে 220 মিটার পথ চলেছে।
- 2প্রায় 100 জন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী অংশ নেন, আর বিজ্ঞানী দলটি প্রায় 1,200 কিলোমিটার দূরে তুরিনের ROCC থেকে রোভারটিকে কমান্ড দিয়েছে।
- 3রোভার পরিচালনার প্রধান Luc Joudrier-এর মতে, ষষ্ঠ দিনে Charlie নিজে নিজে 60 মিটারের বেশি পথ চলেছে, নেভিগেশন ত্রুটি ছিল 1%-এর কম।
- 4পরবর্তী মাঠ পরীক্ষা 2027 সালের গ্রীষ্মে পরিকল্পিত, এতে ExoMars Trace Gas Orbiter-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ যোগ হবে।
- 5ESA আশা করছে, Rosalind Franklin 2030 সালে মঙ্গলে অবতরণ করবে।
পুরো খবর
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA) জানিয়েছে, ExoMars Rosalind Franklin রোভারের একটি প্রোটোটাইপ সেপ্টেম্বরে আট দিন ধরে দক্ষিণ-পূর্ব স্পেনের Tabernas মরুভূমিতে মোট 220 মিটার পথ চলেছে, আর সেটিকে চালিয়েছে প্রায় 1,200 কিলোমিটার দূরে থাকা একটি বিজ্ঞানী দল। ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় 100 জন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীকে একত্র করা এই অনুশীলনকে সংস্থাটি এমন পরিস্থিতির মহড়া হিসেবে বর্ণনা করছে, যার মুখোমুখি রোভারটি 2030 সালে মঙ্গলে পৌঁছানোর পর হতে পারে। প্রোটোটাইপটির নাম Charlie।
ESA-র তথ্যমতে, Tabernas বেছে নেওয়ার একটি কারণ হলো এর ভূখণ্ড মঙ্গলের মতো। গ্রহবিজ্ঞানী Elliot Sefton-Nash বলেছেন, স্থানীয় ভূতত্ত্ব ও খনিজ গঠনের কারণে দলটি এমন একটি পরিস্থিতি সাজাতে পেরেছে, যা তাদের বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম, ব্যাখ্যা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকে চাপের মধ্যে পরখ করার মতো যথেষ্ট বাস্তবসম্মত ছিল। Charlie তৈরি করেছে Airbus, এবং প্রোটোটাইপটি সেই একই দিকনির্দেশনা, নেভিগেশন ও নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যার চালিয়েছে, যার ওপর Rosalind Franklin নিজে লক্ষ্যে পৌঁছাতে ও বিপদ এড়াতে নির্ভর করবে।
ইতালির তুরিনে ALTEC-এর রোভার অপারেশনস কন্ট্রোল সেন্টার (ROCC) থেকে কাজ করে বিজ্ঞানী দলটি রোভারের পাঠানো ছবি, ভূপৃষ্ঠের নিচের রাডার রিডিং ও বর্ণালি তথ্য ব্যবহার করে জীবনের চিহ্ন খোঁজার জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় জায়গাগুলো বেছে নিয়েছে; ESA এই খোঁজকেই মিশনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে। এই তথ্য এসেছে Rosalind Franklin-এর যন্ত্রগুলোর প্রোটোটাইপ থেকে: দূরের ও বিস্তৃত দৃশ্যের জন্য PanCam ক্যামেরা, কাছ থেকে ছবি তোলার ক্যামেরা CLUPI, Enfys স্পেকট্রোমিটার এবং WISDOM গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডার। ESA বলছে, এই যন্ত্রগুলো প্রাচীন অণুজীব কার্যকলাপের নিদর্শন খোঁজার জন্য তৈরি।
Rosalind Franklin-এর রোভার পরিচালনার প্রধান Luc Joudrier বলেছেন, “রোভারটি দারুণভাবে কাজ করেছে।” তিনি জানান, দলটি Charlie-কে নিজে নিজে অনুসন্ধান করতেও দিয়েছিল, এবং ষষ্ঠ দিনে কারও চালনা ছাড়াই এটি 60 মিটারের বেশি পথ পাড়ি দেয়, যেখানে নেভিগেশন ত্রুটি ছিল 1%-এর কম। সবকিছু সহজ ছিল না। ExoMars রোভার ও ল্যান্ডার সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার Chiara Lombardi বলেছেন, রোভারের তথ্য থেকে একটি ঢালের খাড়াভাব বোঝা কঠিন ছিল; দলটি প্রথমে একটি সতর্ক পথ বেছে নেয়, তারপর একটি ডিজিটাল উচ্চতা মানচিত্র ব্যবহার করে নিশ্চিত হয় যে ঢালটি মৃদু। এক দিন বৃষ্টিও মরুভূমির পরীক্ষায় বাধা দেয়, এবং Lombardi বলেছেন, অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটলে কীভাবে পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকার বদলাতে হয়, দলগুলো তা শিখেছে।
ESA-র তথ্যমতে, রোভারটি যখন তার অবস্থান, পরিমাপ ও ছবি ফেরত পাঠাচ্ছিল, তখন তুরিনে পরিকল্পনাকারী ও বিজ্ঞানীরা পরের দিনের প্রস্তুতির জন্য দিনরাত কাজ করেছেন, ঠিক যেভাবে আসল মিশন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ExoMars প্রকল্প বিজ্ঞানী Jorge Vago বলেছেন, “আমাদের হাতে সময়ের বিলাসিতা থাকবে না, তাই মঙ্গলে প্রতিটি দিনকে কাজে লাগাতে হবে।” ESA-র বর্ণনায় পুরো অভিযানটি 20 দিনের, যাতে ছিল প্রতিদিনের ডেটা ডাউনলিংক এবং একটি কঠিন পরিবেশে প্রযুক্তি ও কার্যপ্রণালীর যাচাই। স্পেনের কাজ সংগঠিত করেছে Airbus UK, ইতালিতে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের দিকটি সামলেছে The Open University, আর রোভার মিশনের শিল্প দলের নেতৃত্বে রয়েছে Thales Alenia Space। 2027 সালের গ্রীষ্মে পরিকল্পিত পরবর্তী মাঠ পরীক্ষা আরও জটিল হতে চলেছে, যেখানে মঙ্গলের কক্ষপথে থাকা ExoMars Trace Gas Orbiter-সংক্রান্ত নতুন চ্যালেঞ্জ যুক্ত হবে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
Rosalind Franklin-এর প্রধান কাজ মঙ্গলে জীবনের চিহ্ন খোঁজা, এবং প্রকল্প বিজ্ঞানী Jorge Vago বলছেন, সেখানে পৌঁছানোর পর দলের হাতে সময়ের বিলাসিতা থাকবে না। এ ধরনের মাঠ পরীক্ষা ESA ও তার শিল্প অংশীদারদের অবতরণের কয়েক বছর আগেই, আংশিকভাবে মঙ্গলের মতো দেখতে বলে বেছে নেওয়া ভূখণ্ডে, রোভারের স্বয়ংক্রিয় চালনা সফটওয়্যার এবং নতুন তথ্য পড়ে পরবর্তী লক্ষ্য বেছে নেওয়ার দৈনিক চক্র পরীক্ষা করার সুযোগ দেয়। গ্রহবিজ্ঞানী Elliot Sefton-Nash বলছেন, দলটি অনেক কিছু শিখেছে যা তাদের পরিকল্পনা হালনাগাদ করতে সাহায্য করবে, এবং ESA বলছে, 2027 সালের পরীক্ষার উদ্দেশ্য এই মহড়াকে বাস্তব কার্যক্রমের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া।
সময়রেখা
· প্রকাশিত
বিষয়#ESA#ExoMars#Rosalind Franklin#মঙ্গল#রোভার#মহাকাশ অনুসন্ধান
উৎস
এই খবরটি নিচের সূত্রগুলোর ওপর ভিত্তি করে লেখা। পূর্ণ প্রেক্ষাপটের জন্য সেগুলো পড়ুন।



